শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

৮৮

যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার রিপোর্টে বাংলাদেশের উন্নতি

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২০  

দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বিভিন্ন মানব পাচারের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশিরা জড়িত থাকায় এবং দেশের ভিতরে এ ধরনের অপরাধের বিচারে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থার কারণে তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার রিপোর্টে দ্বিতীয় স্তরের নজরদারি তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দ্বিতীয় স্তরের নজরদারি থেকে উন্নীত হয়ে দ্বিতীয় স্তরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ২০২০ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) প্রতিবেদনে এ বছর মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প রিপোর্টটি উদ্বোধন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার রিপোর্টে চারটি ক্যাটাগরিতে দেশগুলোকে ভাগ করা হয় এবং সেগুলো হচ্ছে- প্রথম স্তর, দ্বিতীয় স্তর, দ্বিতীয় স্তর নজরদারি (ওয়াচলিস্ট) ও তৃতীয় স্তর। তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার রিপোর্টে দ্বিতীয় স্তরের নজরদারি তালিকায় ছিল বাংলাদেশ। যার কারণ হিসেবে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশে বিভিন্ন মানব পাচারের ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশিদের জড়িত থাকা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়া। লিবিয়ায় ৩০ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় বড় ধরনের অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি উঠে আসে প্রতিবেদনটিতে। তবে রোহিঙ্গাদের পাচার নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন তদন্তের আহ্বান করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, নৌকা বোঝাই করে মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা পাচার ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা অনেক শরণার্থীকে জিম্মি করা হচ্ছে এবং তাদের আত্মীয়দের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আগের তুলনায় এবার অবস্থা পাল্টানোয় বাংলাদেশের র‌্যাংকিংয়ের উন্নতি হয়েছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার বিচার না হওয়া। এ বিষয়ে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এলিস ওয়েলস ঢাকা সফরের সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেছিলেন। আইন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্যরা বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে সাতটি বিভাগীয় শহরে সাতটি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার জন্য সরকার অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুমতি দিয়েছে। এর আগে মানব পাচার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা নারী ও শিশু আদালতে বিচার করা হয়। মানব পাচার সংক্রান্ত অপরাধ বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান রেখে ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন পাস হয় সংসদে। কিন্তু আট বছর পর এই ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা হলো।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে মানব পাচারের জন্য ৬৪৪টি মামলা হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে চারটি মামলা, ১১ জনের যাবজ্জীবন ও তিনজনের অন্যান্য মেয়াদের শাস্তি হয়েছে। এর এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে মোট মামলা হয়েছে ৫৪৭টি, ৩৪টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সাতজনের যাবজ্জীবন এবং একজনের অন্য মেয়াদের শাস্তি হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ছিল ৩,৮৫৩ এবং এক বছর পরে সেটি দাঁড়ায় ৪,৪৪০টি মামলা।

বাংলাদেশের জন্য সুখবর বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গতকাল এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক বৈশ্বিক মানব পাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আমাদের জন্য একটি সুখবর। এ বছরের প্রতিবেদনে ‘টায়ার-টু ওয়াচ লিস্ট’ থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ড. মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এ বছরের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সুখবর। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে আরও একধাপ নিচে যাই, অর্থাৎ টায়ার থ্রিতে চলে যাই, তাহলে আমরা নানা সমস্যায় পড়ে যাব। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এইড, ঋণ সুবিধা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে যেত। ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ মানব পাচার প্রতিরোধে সচেষ্ট। আমরা মানব পাচার প্রতিরোধে ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি। সাতজন বিচারক এই ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত রয়েছেন। গত বছর ৪০৩টি মানব পাচার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২টি মামলা আমরা প্রসিকিউট করি। ২৫ জনের সাজা হয়। মানব পাচারে জড়িত থাকার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৬২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স সাসপেন্ড করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি লিবিয়ায় মানব পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমার অনুরোধ, আপনার সন্তানকে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠাবেন না। আর মানব পাচারে জড়িত অসাধু চক্র ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করুন।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর