মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭   ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৯৯

মতিঝিলে হবে ২৫ তলাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু চা ভবন

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২০  

রাজধানীর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ২৫ তলাবিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’ হবে, যেটি নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা। এখন যেখানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চার তলাবিশিষ্ট অফিস রয়েছে, সেখানেই ছয়টি বেজমেন্ট বাদে গ্রাউন্ডফ্লোরসহ ২৫ তলা একটি আইকনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মতামত চেয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।  সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিজস্ব উপার্জনের মাধ্যমে চা বোর্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মিতব্য ২৫ তলা ভবনের মধ্যে দ্বিতীয় তলা বাণিজ্যিকভাবে এবং পঞ্চম থেকে উনিশ তলা পর্যন্ত অফিস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হবে। বহুতল ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর বাণিজ্যিকভাবে ও অফিস হিসেবে   ভাড়া দিয়ে যে আয় হবে, সরকারের বিধি অনুযায়ী তা চা শিল্পের উন্নয়নে ব্যয় হবে। ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম. শাহাবুদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারি অর্থের সংশ্লেষ থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর এটি অনুমোদনের জন্য দ্রুত একনেকে পাঠানো হবে। তিনি জানান, অনুমোদন পেলে স্থাপত্য অধিদফতরের নকশা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পিডব্লিউডি। জানা গেছে, এর আগে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ তলাবিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’-এর নামফলক উদ্বোধন করেছিলেন। সে সময় ৩০ তলা আইকনিক ভবন নির্মাণে যে ডিপিপি দেওয়া হয়েছিল, তাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩০ কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৯০ কোটি টাকা এবং চা বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল। প্রায় দুই বছর পর গত মার্চে সেই ডিপিপি সংশোধন করে পুনর্গঠিত আরেকটি ডিপিপি দেওয়া হয় পরিকল্পনা কমিশনে, যেখানে ৩০ তলার পরিবর্তে বহুতল ভবনটির উচ্চতা ২৫ তলা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যয় আগের চেয়ে ৯৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৩২৪ কোটি টাকা।  চা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, জাতির পিতার নামে চা ভবনটি ৩০ তলা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও রাজধানীতে বহুতল ভবনের উচ্চতা অনুমোদনের জন্য যে জাতীয় কমিটি রয়েছে, তারা এটি ২৫ তলার বেশি অনুমোদন দেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ২৩ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির পুনর্গঠিত ডিপিপি নিয়ে পিইসি (২য়) সভা অনুষ্ঠিত হয় পরিকল্পনা কমিশনে। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, প্রথম পিইসি সভার কার্যবিবরণী জারীর ৪৫৯ কার্যদিবস পর কেন পুনর্গঠিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলো। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়।

 সভায় ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে চা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২০১৮ সালে যথাযথ সমীক্ষা না করে ডিপিপি প্রণয়ন করায় প্রকল্পের বিভিন্ন উপকরণের প্রকৃত ব্যয় প্রতিফলিত হয়নি। এরপর প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় সঠিকভাবে নিরূপণ করার জন্য তারা অন্তত ১০টি পর্যালোচনা সভা করেছে বলে চা বোর্ড জানায়। সূত্র জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-৫৮ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রথম বাঙালি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তিনি মতিঝিলে ০.৩৭১২ একর জমি কিনে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হলেও মতিঝিলের ভবনটি লিয়াজো অফিস হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। পরে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চা বোর্ডের ৮৩তম সভায় চা শিল্পের উন্নয়নে জাতির পিতার সবিশেষ অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নামের সঙ্গে যুক্ত করে একটি আইকনিক স্থাপনা হিসেবে ৩০ তলাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু চা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’ নামের প্রশাসনিক অনুমোদন দেন।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর