বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৬০৩

‘ভালোবেসে’ ৩৪ শিক্ষার্থীকে শূন্য দিলেন এই শিক্ষক

বাংলার আলো ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৯  

 ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে এসাইনমেন্টে শূন্য দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি)। অভিযোগ উঠেছে যে শিক্ষক শিক্ষার্খীতের শূন্য দিয়েছেন তিনি কেবলমাত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এমনটা করেছেন। আর ঘটনা ঘটিয়েছেন বশেমুরবিপ্রবি’র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের ভাতিজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার মাহমুদ পারভেজ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য অনৈতিকভাবে শূন্য দিয়েছেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে খন্দকার পারভেজ জানিয়েছেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মত ভালোবাসি, তাদের ভালো চাই এবং এ কারণে কপি পেস্ট করায় শূন্য দিয়েছি’।

আইআর দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘রিফিউজিস মাইগ্রেন্ট এন্ড দ্যা ডিসপ্লেসড’ নামের ওই কোর্সটির ফলাফলে দেখা যায়, ৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জনকে শূন্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর দেয়া হয়েছে ৫ জনকে, ২ দেয়া হয়েছে ১৬ জনকে, ৩ দেয়া হয়েছে ৭ জনকে ৪ দেয়া হয়েছে ৮ জনকে এবং ৫ দেয়া হয়েছে ৮ জনকে। অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদেরকে দেয়া হয়েছে পাঁচ এর অধিক নাম্বার।

শূন্যপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের শুধুমাত্র এসাইনমেন্ট পেপার জমা দিতে হয়েছে তা নয় দিতে হয়েছে ভাইভাও। কিন্তু এরপরেও খোন্দকার পারভেজের নিকট থেকে তারা এক নম্বরও অর্জন করতে সক্ষম হননি। শূন্য প্রাপ্ত একজন জানান খোন্দকার পারভেজ তার এসাইনমেন্ট পেপার পড়েই দেখেননি।

খন্দকার বানানে ‘ই’ এর জায়গায় ‘এ’ লেখায় খাতা ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। আরেক শিক্ষার্থী জানান তিনি এসাইনমেন্টের ভাইভা দিতে গেলে খন্দকার পারভেজ তাকে জানিয়েছেন, ‘তোমার এসাইনমেন্টে বানানে অনেক ভুল রয়েছে তাই আমি তোমাকে ইতিমধ্যে শূন্য দিয়ে দিয়েছি। তুমি আসতে পারো।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন তারা কয়েকজন মিলে শূন্য দেয়ার কারণ জানতে চাইলে খোন্দকার পারভেজ বলেছেন, ‘আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই শূন্য দিয়েছি।’

এদিকে, ৩৪ জন শিক্ষার্থী শূন্য পওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন ওই বিভাগের লেকচারার মাহবুবা উদ্দিন। তিনি জানান, ‘শিক্ষার্থীদের কোন গ্রাউন্ডে শূন্য দেয়া হয়েছে কিংবা শূন্য দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা সেটা তো এসাইনমেন্ট পেপার না দেখে বলা সম্ভব নয়। তবে আমিও তাদের ক্লাস করিয়েছি, আমার তাদেরকে এতটা খারাপ মনে হয়নি যে ৩৪ জন শূন্য পাবে। হয়তো দু একজন খারাপ থাকতে পারে কিন্তু এই ব্যাচের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে আমার ভালোই মনে হয়েছে।’

মাহবুবা উদ্দিনের কথার প্রমাণ পাওয়া গেছে রেজাল্ট শিটেও। খোন্দকার পারভেজের এসাইনমেন্টে শূন্য পাওয়া এসব শিক্ষার্থীরাই অন্যান্য কোর্সের এসাইনমেন্টে পেয়েছেন ৭ এর অধিক নাম্বার এমনকি খোন্দকার পারভেজের কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষায়ও তাদের নাম্বার ১০ এর উপরে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুধুমাত্র নাম্বার কম দেয়া নয় সর্বদাই স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন এই শিক্ষক, কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার হুমকি দেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমদিকে তার আচরণ মোটামুটি ভালো ছিলো কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। ইছেমতো নাম্বার কম দেয়া, কথায় কথায় হুমকি দেয়াসহ শিক্ষার্থীদের অপমান করা সবই করেছেন তিনি। আর যেহেতু তিনি ভিসির ভাতিজা ছিলেন আমাদেরো নিরবে সহ্য করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলোনা’।

তবে শিক্ষার্থীদের সকল অভিযোগই অস্বীকার করেছেন খন্দকার পারভেজ। তিনি জানিয়েছেন সাত আটজন এসাইনমেন্ট জমা না দেয়ায় শূন্য দিয়েছেন আর অবশিষ্ট শিক্ষার্থীরা কপি পেস্ট করায় এবং লেখার মান ভালো না হওয়ায় শূন্য দিয়েছেন। ভাইভাতেও কিভাবে শূন্য পেলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যথাযথ উত্তর না পাওয়ায় শূন্য দিয়েছি’। এসময় তিনি এও বলেন, শিক্ষার্থীদের তিনি নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসেন এবং সর্বদা তাদের সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, খন্দকার পারভেজ ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেকশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণী থাকা সত্বেও মাত্র দেড় বছরেই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর