বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

২৯৬

বিশ্ব সেরা ১০ ধনীর সাতজনই ইঞ্জিনিয়ার

বাংলার আলো ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বাজার খারাপ। কিন্তু বিশ্বে চাকরিদাতা এবং ধনীদের তালিকায় বেশিরভাগই ইঞ্জিনিয়ার। তারা বিশ্ব সেরা ১০ ধনীর সাতজন। আজ জানবো তাদের সম্পর্কে।
 
জেফ বেজোস

তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। নিউ মেক্সিকোয় ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি তার জন্ম। বড় হয়েছেন হাউজটন, টেক্সাসে।

ধনী ইঞ্জিনিয়ারের তালিকায় প্রথমে আসে জেফ বেজোসের নাম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যামাজনের উদ্যোক্তা তিনি। ২০১৯ সালে ফোর্বসের বিশ্বজুড়ে কোটিপতি তালিকায় প্রথম হয়েছেন। ১৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক তার পরিবার।

বেজোস প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এ ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। জেফ অ্যামাজন শুরু করেন তার বেডরুমে। প্রথমে অনলাইনে বই বিক্রির দোকান ছিল অ্যামাজনের। সেখান থেকেই জেফ আজকে বিশ্ব সেরা ধনী।

বিল গেটস

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ১৯৫৫ সালের ১৮ অক্টোবর জন্ম বিল গেটসের। তিনি একজন সফল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী।

বিল গেটস বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা। একাধারে ১৩ বছর যাবৎ তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ছিলেন। বিল গেটসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ বিলিয়ন ডলার।

১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল এলেন মাইক্রোসফট শুরু করেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন। এখন তিনি একজন বোর্ড মেম্বার হিসেবে আছেন।

মার্ক জাকারবার্গ

১৯৮৪ সালের ১৪ মে আমেরিকায় নিউইয়র্কে জন্ম মার্ক জাকারবার্গের। বিশ্বে ধনীর তালিকায় পঞ্চম জাকারবার্গ।
একজন সফল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৪ বিলিয়ন ডলার। মার্ক জাকারবার্গ সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া মানুষদের একজন। কলেজ ক্যাম্পাসে ছোট পরিসরে তিনি ফেসবুক চালু করেছিলেন। আজকে ফেসবুক ৪০০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি।

২০১০ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জাকারবার্গ বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ঠাঁই করে নেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ঐ বছর তাকে পারসন অব দ্য ইয়ার হিসেবে মনোনীত করেছিল।

কার্লোস স্লিম

১৯৪০ সালে ২৮ জানুয়ারি জন্ম কার্লোস স্লিমের। তিনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং ধনী মানুষদের তালিকায় তার অবস্থান ৭ম। মেক্সিকান ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম হেলুর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৭ বিলিয়ন। তার নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০০ টার মত কোম্পানি চলে। তিনি টেলি কমিউনিকেশন থেকে শুরু করে ব্যাংক ব্যবসা পর্যন্ত করেন। তার বাবা লেবানন থেকে মেক্সিকো একজন ইমিগ্রান্ট হিসেবে আসেন।

কোক ব্রাদার

দুই ভাই তারা। চার্লস কোক এবং ডেভিড কোক। দুজনই আমেরিকার নাগরিক। আমেরিকায় ১৯৩৫ সালের ১ নভেম্বর জন্ম চার্লস কোকের। ডেবিড কোকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ মে।

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ধনীদের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে আছেন কোক ব্রাদার। চার্লস আর ডেভিড কোক মিলে আমেরিকার কোক ইন্ডাস্ট্রি চালান। তারা ৬০ বিলিয়ন ডলারের মালিক। দুইজনই বাবার থেকে এই কোম্পানির অংশ পেয়েছেন। এই দুই ভাই আমেরিকার রাজনীতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে জড়িত।

ল্যারি এলিসন

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৪৪ সালে জন্ম ল্যারি এলিসনের। একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ধনীদের তালিকায় নবম অবস্থানে আছেন তিনি। ল্যারি এলিসন সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের নির্মাতা ও প্রাক্তন সিইও।

১৯৭৭ সালে তিনি গড়ে তোলেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ। পরে ১৯৭৯ সালে এরই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ওরাকল। তার সম্পদের পরিমাণ ৫৮ বিলিয়ন ডলার। তার কোম্পানি অনেক সফটওয়্যার বানিয়ে বিশ্বকে টেকনোলজির দিক থেকে অনেক দূরে নিয়ে এসেছেন তিনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এর ডাটাবেজও এলিসনের তৈরি। তিনি একজন বড় মনের দাতাও বটে। তিনি পড়াশোনার উন্নতির জন্য কোটি কোটি টাকা দান করেছেন।

মাইকেল ব্লুমবার্গ

১৯৪২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় জন্ম মাইকেল ব্লোমবার্গের। একজন সফল ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ধনীদের তালিকায় দশম অবস্থানে আছেন তিনি।

তার সম্পদের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার। ১৯৮১ সালে তিনি একটি মিডিয়া কোম্পানি শুরু করেন। তিনি শেয়ার মার্কেট ও বিভিন্ন ব্যবসায় নিজেকে জড়িত রেখেছেন। তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কের মেয়র ছিলেন অনেক বছর।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর