বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

৭৭৮

বিতর্কিত সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০১৯  

বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যক্তি সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিচারক আস সামস জগলুল হোসেন প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সেফাত উল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার বিভিন্ন ভিডিও আপলোড করেছেন, যা ভাইরাল হয়েছে। তিনি এসব ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছেন। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১ ধারার অপরাধের শামিল। 

১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক পার্থ প্রতিম ব্রহ্মচারী সেফাত উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির এক পারিবারিক ঝগড়ার কারণে কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিন ভিয়েনায় জেল খাটেন সেফাতউল্লাহ। মুক্ত হবার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার লিগ্যাল হবার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন মাদকাসক্তিতে। এদিকে বছরখানেক আগে থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় সবার নজরে আসেন তিনি। একেক সময় ফেসবুক লাইভে এসে অসংগতিপূর্ণ আলোচনায় মেতে ওঠেন। লাইভে তিনি জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অশ্লীল বার্তা বলেন। কখনো বা মদ খেয়ে মাতাল হয়েও লাইভে আসেন। তার একাধিক লাইভে তিনি মদ পানরত অবস্থায় তাকে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার প্রতি মানুষের আগ্রহ তাকে আরো বেশি উন্মাদ করে তুলেছে। বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সেফাতউল্লাহ।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো অভিযোগ আসে। তিনি ফেসবুকে লাইভে এসে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফের ব্যাপারে খারাপ কথা ও কোরআন শরীফ ছিঁড়ে ফেলে পা দিয়ে মাড়ানোর ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ঘটনায় পুরো দেশ উত্তাল হয়ে পড়ে। তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ বিচারের জন্য আন্দোলনও হয়েছে। তবে বিভিন্ন আইনত সমস্যায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি তখন।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সাল থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্হান করছেন সেফাতউল্লাহ। তার বাড়ি চাঁদপুর। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর