মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

১৩১৮০

বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক: দুশ্চিন্তায় নীতি-নির্ধারকরা

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর দল পুনর্গঠনের ব্যাপারে মনোযোগী হয়েছে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা যখন একদিকে দলকে পুনর্গঠনের কথা বলছেন অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই খবর আসছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কারণ বা অজুহাত দেখিয়ে পদত্যাগ করছেন দল থেকে। 
দল ত্যাগের মিছিলে শুধু যে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাই রয়েছেন তা নয়, এই পদত্যাগের মিছিলে যুক্ত হচ্ছেন একের পর এক বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা। বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী, খালেদার সাবেক উপদেষ্টা ইনাম আহমেদের পদত্যাগের পর এবার পদত্যাগকারী নেতাদের দলে যুক্ত হয়েছে বিএনপি শাসনামলে অঘোষিত সচিবালয় নামে পরিচিত হাওয়া ভবনের এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আলী আজগর লবি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথা বললেও দলটির নেতা-কর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা।
পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলী আজগর লবির পরিবর্তে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে তার আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। লবি বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন তিনি।
প্রসঙ্গত  হাওয়া ভবনের বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলী আসগর লবি অনেক বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া খুলনা-২ আসনে জিতে তিনি সাংসদ হন। সেই সময় ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল ‘হাওয়া ভবন’। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এখান থেকে দল পরিচালনা করতেন। লবি হাওয়া ভবনে তারেকের বেশ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর মতে শুধু আলী আজগর লবিই নয়, বিএনপি থেকে পদত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও একাধিক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। এরই মধ্যে দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। বিএনপি করতেন এমন ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে নানান পথে বিএনপি থেকে সরে আসছেন। আলী আসগর লবির মতো যারা প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা ছিলেন তারা এখন সবাই একে একে পদত্যাগ করার পথে। এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিএনপি থেকে এই পদত্যাগের মিছিল বন্ধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এই পদত্যাগের হিড়িক। দেশের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন এভাবে পদত্যাগের সংস্কৃতি চলতে থাকলে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
 

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর