শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২২ ১৪২৭   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৪১

`বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন মাইলফলক`

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২০  

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত রোববার স্থলপথের পাশাপাশি প্রথম রেলপথে ভারত থেকে বিভিন্ন প্রকারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। কন্টেইনারে পণ্য আমদানি করার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে গতি আসবে এবং সম্পর্ক আরও টেকসই হবে বলে মনে করছেন তারা। শুক্রবার হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত শিশির গুপ্তের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানোনো হয়েছে। 

বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে ভারত থেকে ২৫টি ফ্ল্যাট ওয়াগানের মাধ্যমে ৫০টি কন্টেইনারে ৮ জন আমদানিকারকের ৬৪০ মেট্রিক টন গার্মেন্টস, কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন প্রকারের পণ্য আমদানি করা হয়। ভারত বলছে, ট্রাকের চেয়ে কন্টেইনারে করে পণ্য আমদানি অনেক বেশি নিরাপদ। এতে খুব কম খরচে ও কম সময়ে রেলপথে পণ্য আমদানি করা যায়।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় গত ২২ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের রেল ও স্থলপথে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। টানা আড়াই মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে লোকসানের মুখে পড়েন। এরপর দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতায় বিকল্প মাধ্যম হিসেবে সাইড ডোর কন্টেইনারে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা হয়।

ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কন্টেইনার ট্রেনগুলো শুধু ভারতের প্রয়োজনীয় পণ্য রপ্তানি করতে নয় বরং এর মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা নিয়ে সিন্ডিকেট যে হয়রানি করতো তা থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। কম সময়ে ও কম ব্যয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সহায়ক হবে।

ভারতের কর্মকর্তারা এটাকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, কন্টেইনারের মাধ্যমে এই পণ্য পরিবহনের ধারণা ট্রান্সশিপমেন্টের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরায় পণ্য পরিবহন শুরুর যে পরিকল্পনা রয়েছে সেটাকে এই পদক্ষেপ আরো ত্বরান্বিত করবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের যে স্তরটি ছিল এই পদক্ষেপ সেটিকে আরো উপরে নিয়ে গেল। 

এরইমধ্যে চলতি মাসে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের পর নির্ধারিত হারে মাশুল ও ফি পরিশোধ করে সড়কপথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট এর চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো এ জাহাজটি ১০৮টি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাভার্ড ভ্যানে করে চারটি কনটেইনার আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে প্রবেশ করে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্যে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে এবং ২০১৪ সালে ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, তখন এই দুই নেতা ইতিহাস গড়েন। মোদির প্রথম ঢাকা সফরে ৪১ বছর ধরে চলা স্থলসীমা বিরোধের সমাধান হয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিলেন। 

গত বছর নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সফরকালে এই দুই নেতা তাদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি ‘সোনালী অধ্যায়ের’ সূচনা করেন।

গত সোমবার ভারত বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশকে ১০টি ব্রডগেজ রেলওয়ে লোকোমোটিভ ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে বলে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়। 

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর