শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৬৬

ধন্যবাদার্হ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২০  

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি নিয়মিত বাহিনী। দুই-চার দশক পূর্বে আমাদের ধারণায় ছিল, সেনাবাহিনী কেবল বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার জন্য। কিন্তু সেই ধারণা আজ আমূল পালটাইয়া গিয়াছে। আমাদের সেনাবাহিনী কেবল যুদ্ধ করিবার জন্যই বসিয়া থাকে না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো মানবিক ও সামাজিক কাজে নিয়োজিত পৃথিবীর কম দেশে এবং বিদেশে এই বাহিনীর সুনাম এখন আকাশচুম্বী। ১৯৮৮ সাল হইতে আমাদের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের পিস অপারেশনে নিয়োজিত রহিয়াছে। দিন যতই গড়াইয়াছে ততই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বাড়িয়াছে মিশনে। জাতিসংঘের মিশনে শান্তি রক্ষা বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংখ্যাই সর্বাধিক। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পাল করিতে গিয়া স্থানীয় জনসাধারণের মন কাড়িয়া লইয়াছেন বাহিনীর সদস্যরা। এই বাহিনীর কারণেই সুদূর আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হইয়াছে। শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া বিভিন্ন সময় আমাদের এই বাহিনীর বেশ কিছু সদস্যকে প্রাণ দিতে হইয়াছে।

এই দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া বিভিন্ন দেশে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তাহারা সফলতা অর্জন করিয়াছেন। ২০১০ সালে হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর অবকাঠামো নির্মাণ, দক্ষিণ সুদানে সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করিয়া বিভিন্ন দেশের মানুষকে চিকিত্সা প্রদান—সর্বক্ষেত্রেই একটি সভ্য বাহিনী হিসেবে পরিচয় দিয়াছে। এই পিস কিপিং ফোর্স বা শান্তি রক্ষা বাহিনীতে কাজ করিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অর্থনীতিতেও একটি ভূমিকা রাখিতেছে। তাহাদের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হইতেছে।

দেশের অভ্যন্তরে যখনই বড়ো আকারের ঝড়, বন্যা দেখা দিতেছে, তখনই সেনাবাহিনী ডাকামাত্র স্বতঃস্ফূর্ত কাজে ঝাঁপাইয়া পড়িতেছে। তাহারই আরেকটি বড়ো উদাহরণ আমরা দেখিতে পাইতেছি করোনার বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ, লকডাউন পালনে জনগণকে পরামর্শ দেওয়া, মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করার কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করিতে দেখা যাইতেছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দল চিকিত্সাসেবা প্রদানেও আগাইয়া আসিয়াছে। ইহার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। পাশাপাশি ইহাও আমাদের স্মরণ রাখিতে হইবে যে, কাজ করিতে গিয়া এই বাহিনীর মধ্যে যেন করোনা সংক্রমণ ছড়াইয়া না পড়ে। কারণ এই বাহিনীর অফিসার ও সদস্যদের দলবদ্ধ হইয়া কাজ করিতে হয়। তাহাদের মধ্যে সংক্রমণ অধিক মাত্রায় দেখা দিলে তাহা বিপদের কারণ হইয়া দাঁড়াইতে পারে।

সুতরাং নিঃসন্দেহে ইহা বলা যায় যে, আমাদের সেনাবাহিনী এখন আর তৃতীয় বিশ্বের অনেক সেনাবাহিনীর মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে নিয়োজিত হইবার মানসিকতা রাখে না। বরং বাহিনী প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে ঝাঁপাইয়া পড়ায় অভ্যস্ত হইয়াছে। আবার প্রয়োজনে দেশমাতৃকার জন্য তাহারা ঝাঁপাইয়া পড়িতে কোনো সময়ক্ষেপণ করিবে না। কারণ এই নিয়মিত বাহিনী দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সদা সজাগ। অতএব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের জন্য একটি চৌকশ শক্তি। আমরা অবশ্যই এই বাহিনী লইয়া গর্বিত।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর