মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২৩১২৪

দ্রুত বদলে যাচ্ছে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৯  

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বদলে যাবে যানজটের চিরচেনা এই নগরী ঢাকা। একের পর এক ফ্লাইওভার, উড়ালসড়ক, আন্ডারপাস, একাধিক মেট্রোরেল রুট, বিআরটি, অত্যাধুনিক শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে মহানগরী ঢাকাকে। 

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার ও নতুন সড়ক ঢাকার উত্তরের বেশির ভাগ অংশকে করেছে যানজটমুক্ত। কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার (মিরপুর-বিমানবন্দর সড়ক), বনানী ওভারপাস ও পূর্বাঞ্চলে লিংক রোডের মাধ্যমে এ অঞ্চলে যাতায়াতে এসেছে তুলনামূলক স্বস্তি। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নগরবাসীকে দিয়েছে যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদের দুঃসহ যানজট থেকে মুক্তি। নগরীর মধ্যস্থানে থাকা হাতিরঝিলও কাছে এনেছে গুলশান ও কারওয়ানবাজারকে। 
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে রাস্তা অনুপাতে ঢাকায় সর্বোচ্চ তিন লাখ যানবাহন চলাচল করতে পারে। বেশি গাড়ি আর অতিরিক্ত মানুষের বোঝার কারণেই মাত্রা ছাড়িয়েছে ঢাকার যানজট। তাই সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর যানজট নিরসন। তাই যানজট রোধে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো ঢাকা শহর সত্যি সত্যিই স্বপ্নের শহরে রূপ নেবে।

জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, এ শহরে বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষের বসতি। তাছাড়া রাজধানী শহরে এখন নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১৪ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে ১০ লাখের বেশি রয়েছে অনিবন্ধিত রিক্সা। এছাড়া ইজিবাইকসহ নিবন্ধনের বাইরে থাকা যানবাহনের সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই।

মেট্রোরেল ঃ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ যাত্রীদের ৩৮ মিনিটে পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় মেট্রোরেল রুট-৬ এর নির্মাণযজ্ঞ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। জাপানী সহায়তায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজ শেষ করে ২০২০ সালের শেষ দিকে নগরবাসীর জন্য মেট্রোরেল উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার কথা সে সময় জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেই সময় প্রায় এক বছর পিছিয়ে এখন ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল রুট-৬ পুরোপুরি চালু হওয়ার আশার কথা বললেন তিনি।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)ঃ  রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার আসা-যাওয়া করতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ॥ রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়াল সড়ক) নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিপরীতে এয়ারপোর্ট রোডের কাওলা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত সংযোগ সড়কসহ ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এক্সপ্রেসওয়েটি। এখন রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে উত্তরা পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ একেবারেই দৃশ্যমান।

ইসিবি চত্বর থেকে কালশী রুটে ফ্লাইওভার ॥ মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে কালশী রোডে চলছে মহাযজ্ঞ। অনেকে মনে করছেন, এটা হয়তো মেট্রোরেলের রুট। আসলে ঢাকার মিরপুরে ইসিবি চত্বর থেকে কালশী মোড় পর্যন্ত নতুন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৮৪৪ দশমিক ১২ মিটার।

নগরবিদরা মনে করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নগরবাসী যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। সচল থাকবে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এরমধ্য দিয়ে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাবেন। মেট্রো রেল, বিআরটি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ইসিবি চত্বর থেকে কালশী রুটে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চলছে। ২০২১ সাল থেকেই এসব প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারবেন নগরীর মানুষ। যা ২০৩০ সালে পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা।

ঢাকায় একগুচ্ছ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আরএসটিপি অনুযায়ী ঢাকা শহরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। শুধু একটি মেট্রোরেল দিয়ে ঢাকার যানজট নিরসন হবে না। তাই আমরা মেট্রোরেলের পাশাপাশি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার ও সড়ক প্রশস্ত করার কাজ করছি। একটি প্রকল্প আরেকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সব প্রকল্পের কাজ যখন সম্পন্ন হবে তখনই ঢাকা যানজট মুক্ত হবে। এসব প্রকল্প আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করছি।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর