মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭   ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৩৩

দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২০  

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। যারা খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই; দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি জিনিস না বললেই নয়; আমরা দেখতে পাচ্ছি যেকোনো অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতে বলতে মানুষের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশের জন্য একটা বিপজ্জনক। কারণ আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের যেমন ভাল মানুষ আছে, খারাপ মানুষও আছে। বর্তমান সরকার কিন্তু খারাপ মানুষগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের কিন্তু আইনের আওতায় আনছে। এটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে পজিটিভ জিনিস।

করোনার মধ্যেও নৌ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত বছর আমরা প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ এডিপি অর্জন করেছিলাম। কোভিড ১৯ এর মধ্যেও আমরা এবার ৮৫ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি। জাতীয় বাস্তবায়নের চেয়েও আমরা এগিয়ে আছি। এজন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাহস ও কর্মনিষ্ঠার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ এডিপি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন।

করোনার মধ্যেও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ বলেন, আমাদের সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক রুটে এবং অভ্যন্তরীন রুটে পণ্য পরিবহনে আমরা আমাদের অসাধারণ সক্ষমতা দেখিয়েছি। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এতো সংকটের মধ্যেও পণ্যের দামের কোন উঠানামা হয়নি। এর একমাত্র কারণ পরিবহনে সঠিক ব্যবস্থাপনা।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমগ্র দেশে বন্যা পরিস্থিতি অনেক খারাপ পরিস্থিতিতে চলে গেছে।নদীগুলোর প্রায় ১০০ সেন্টিমিটারের উপরে পানির প্রবাহ আছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতাও কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় পানি নিচে নামতে পারছে না। সে কারণে অনেক জায়গা প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার আশপাশে ও ঢাকার ভেতরেও অনেক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে সড়কের উপর পানি উছে গেছে। পরে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেখানে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অবস্থায়ও ফেরি পারাপারে বিকল্প চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে। প্রবল স্রোতের মধ্যেও আমাদের কর্মকর্তারা প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, ফেরি চালু রাখার জন্য।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা চাঁদপুর রুটে কয়েকদিন আগে সেখানে একটি সিমেন্টবাহী জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। আমাদের বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে সেটিকে চ্যানেল থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেটিকে তুলে আনা সম্ভব হয়নি। কালিগঞ্জ যে চ্যানেলটি আছে সেটিও আমরা পরিদর্শন করেছি। আমি নিজে সেখানে গিয়েছিলাম। কাজেই ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটটি আমরা নিরাপদ রাখতে আমরা সমর্থ হব। ড্রাইভার মাস্টারদের বয়াবাতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বিষয়টি সত্য নয়; আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে, একদিকে স্বাস্থ্যবিধি আরেক দিকে বন্যা; এর মধ্যেও আমরা মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন আমাদের এ ঈদ যাত্রাটা, যতটুকু সম্ভব স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করার চেষ্টা করছি। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোন প্রয়োজন না থাকলে যেন স্থানান্তর না হয়। আমি এর আগেও বলেছি, এখনো বলতে চাই- খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকে যেন আমরা ঈদুল আযহা উদযাপন করি। আমরা ভার্চুয়ালি আনন্দ ভাগাভাগি করে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারি। আমাদের দুইটা পরিস্থিতি, একটা হচ্ছে কোভিড ১৯, এটা অবহেলা করার সুযোগ নাই। কোভিডের কারণে যেখানে আমাদের ১০০ ভাগ বাস্তবায়নের কথা, সেখানে ১৫ ভাগ আমরা বাস্তবায়ন কম হয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের এর থেকে কমবেশি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ ঘটাতে না পারি, তাহলে আমাদের অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা লাগবে। এ উত্তরণ ঘটানো জন্য একমাত্র জনসচেতনতার কোন বিকল্প নাই। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একটি পিসিআর ল্যাব দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। এখন প্রায় ৬৪টি পিসিআর ল্যাব কাজ করছে। এর মধ্য দিয়ে করোনা সনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নিজেদেরকে সুরক্ষা করতে হবে। আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাগুলো আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান। এর থেকে বড় সুখবর আর কিছু হতে পারেনা। পদ্মা একটা অস্বাভাবিক আচরণ করে। পদ্মা সেতুর কাজও শেষ পর্যায়ে। কাজেই তাদেরও কিছু নির্দেশনা আমাদের অনুসরণ করতে হয় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে। আমরা যেহেতু সেগুলো অনুসরণ করছি। কাজেই আমাদের কার্যক্রমে একটু বিঘ্ন হতে পারে। এতটুকু কষ্ট আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। আমাদের পদ্মাসেতুর বৃহত্তর স্বার্থে।

এদিন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাথে এর অধীনস্থ ১১টি দপ্তর/সংস্থাসমূহের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং দপ্তর/সংস্থা প্রধানগণ এপিএ-তে স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থিত দপ্তর/সংস্থাসমূহের প্রধানগণ সরাসরি এবং ঢাকার বাইরের দপ্তর/সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এপিএ টিম লিডারদের জুম এপের মাধ্যমে অংশ নেন।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর