সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

৩১৭

টাকার অভাবে যমজ দুই বোনের ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০১৯  

সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া যমজ দুইবোন। দুজনই এসএসসিতে ‘এ প্লাস’ ও এইচএসসিতে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়েছেন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছেন তারা। কিন্তু ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত তাদের।

সুরাইয়া-সুমাইয়া বাগেরহাট জেলা সদরের পৌরসভার হরিণখানা গ্রামের দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদারের মেয়ে। মা শাহিদা বেগম গৃহিণী।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া জানান, আমরা চান্স পেয়েছি। তবে ভর্তি নিয়ে এবং পরের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বৃত্তির জন্য আবেদন করেছি, তবে এখনো গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া ভর্তির টাকা ম্যানেজ হয়েছে কিনা তাও জানি না। ৩১ তারিখের মধ্যে আমাদের ভর্তি হতে হবে।

ওই দুই বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, বাবা দিনমজুর, মা গৃহিনী। বড় কোনো ভাই নেই। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত টিউশনি করিয়ে পড়াশুনার খরচ জোগাড় করেছি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুই বোনই জিপিএ-৫ (গোল্ডেন A+) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তাদের দুই বোনেরই স্বপ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার। ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। বর্তমানে ভর্তির জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে দুই বোনের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। এজন্য তারা বৃত্তির আবেদন করেছেন।

মা শাহিদা বেগম জানান, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুইজনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্ট। তারপরও চেষ্টা করছি সকলের সাহায্য নিয়ে যদি দুজনকে ভর্তি করতে পারি। তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে ওরা।

তিনি আরও বলেন, দুই বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সে পরিমাণ টাকা আমরা জোগাড় করতে পারছি না। এ কারণে পরিবারের সবাই চিন্তায় আছি।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর