বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

২৫০

চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনঃ সুফল পর্যালোচনা

মন্নুজান ইসলামঃ

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে তিনটি যৌথ প্রকল্প। যার মধ্যে অন্যতম ছিলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি প্রদান। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের যোগাযোগ ক্ষেত্রে সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলো এবং নেপাল ও ভুটানের সাথে যোগাযোগের ব্যাপারে আরকধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ। 

ভারতের মূল অংশের সাথে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্য করতে হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে গড়ে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হয় কলকাতার বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে। আর বর্তমান চুক্তির ফলে মাত্র ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা পণ্য আনা নেওয়া করতে পারবে। অন্যদিকে চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে অন্যান্য অঞ্চলে বাণিজ্য পণ্য প্রেরণ করতে হলে ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরবর্তী দক্ষিণ চীন সাগরে পাঠাতে হয় এবং তারপর ট্রান্সশিপমেন্টের ব্যবস্থা করতে হয়। বাংলাদেশ চাইলেই এই সমস্যার একটি সহজ সমাধান দিতে পারে। সেই সাথে নেপাল ও ভুটানকেও এই সুবিধা প্রদান করতে পারে বাংলাদেশ। অদূর ভবিষ্যতে এমন লক্ষ্য নিয়েই প্রথম ধাপ হিসেবে ভারতের সাথে এএসপি চুক্তি স্বাক্ষর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।   

অর্থনৈতিক লাভঃ মংলা বন্দর ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের কাছ থেকে এবং অদূর ভবিষ্যতে নেপাল, ভুটান ও চীনের কাছে থেকেও অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে। মংলা পোর্টের জায়গা ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পোর্টে কর্মরত শ্রমশক্তির ও যন্ত্রপাতির উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারবে। যত বেশি পণ্য খালাস হবে পোর্ট তত বেশি সক্রিয় থাকবে। ফলে বিদেশি বড় জাহাজ আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পোর্ট হিসেবে স্বীকৃতির সুযোগঃ মংলা বন্দর সূত্র জানায়, ভারত, নেপাল ও ভুটান ট্রানজিট সুবিধায় এ বন্দর ব্যবহারে অনেক আগ থেকেই প্রস্তাব দিয়েছে সরকারকে। কিন্তু সরকারি নানা জটিলতায়, অবকাঠামোগত নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকায় কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের এই চুক্তির ফলে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ভুটান তাদের পণ্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আনা নেওয়া করতে পারবে। এতে বন্দরটি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পোর্ট হিসেবে স্বীকৃতি পাবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নির্ভরশীলতা বৃদ্ধিঃ ভারতের সেভেন সিস্টার্স মংলা ও চট্টগ্রাম পোর্টকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেওয়ার পরিবর্তে মাত্র ২০০ কিঃ মিঃ রাস্তা পাড়ি দিয়ে মংলা বন্দরে পণ্য পৌঁছুতে পারবে, ফলে দ্রুতই তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বাংলাদেশের উপর। যেটি নানাভাবেই লাভবান করবে আমাদের।  

ভারত নেপাল ও ভুটানে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিঃ এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পথ সহজতর হবে। সেইসাথে ভারতের পাশাপাশি স্বল্প কিছুদিনের মধ্যেই নেপালে ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য খুব দ্রুত রপ্তানির পথ উন্মুক্ত হবে। এতে বাড়বে দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিক দিয়ে ট্রানজিট থেকে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হলেও দূরত্ব, ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ের দিক দিয়ে ভুটান, চীন, ভারত ও নেপাল পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।

অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহন এএসপি চুক্তিতে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হবে।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর