মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

১৩৭০

খালেদার জন্য পরিবারের সদস্যদের হারাতে বসেছে ফাতেমা

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯  

ফাতেমা বেগম। ৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার একদিন আগে থেকে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ফাতেমা নামের ৩৫ বছর বয়সী এই মহিলা।

ফাতেমার দুই সন্তান। বড় মেয়ে রিয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে রিফাত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ফাতেমার বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মালেকা বেগম ভোলা সদরের কাটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

৮ বছর আগে ফুফাতো ভাই বশির উল্ল্যার হাত ধরে ভোলা থেকে ঢাকায় আসেন ফাতেমা। ঢাকা এসেই গৃহকর্মী হিসেবে ফাতেমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন। ঢাকা আসার আগেই ফাতেমার স্বামী হারুন লাহড়ী মারা যান।

স্বামীহারা ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে এখন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১০ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার সাথে বসবাস করছেন। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির এভাবে কারাগারে থাকার এমন ঘটনাও নজিরবিহীন। কিন্তু খালেদার অপরাধের সাথে বিন্দু পরিমাণ সম্পর্ক না থাকার পরেও খালেদার সাথে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা বলে পরিচিত ফাতেমা বেগম।

গাড়িতে খালেদার সঙ্গে ফাতেমা


খালেদার আইনজীবী এবং বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতেই মূলত ফাতেমাকে খালেদার সাথে কারাভোগ করতে হচ্ছে। অবাক মনে হলেও সত্য পৃথিবীর ইতিহাসে খালেদা একমাত্র আসামি যিনি কারাদণ্ড ভোগ করা অবস্থায় বাইরে থেকে নিরপরাধ গৃহপরিচারিকা সাথে রাখার সুবিধা পেয়েছেন।

 

অতিসম্প্রতি বেগম জিয়ার কাজের মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন তারই হতভাগা বাবা রফিকুল ইসলাম। অনেক দিন ধরে দেখা হয় না তার মেয়ের সাথে। কিন্তু কোনো মেয়েকে তো ভুলে যেতে পারেন না তার বাবা। আর সেই ইচ্ছাকে কেন্দ্র করে মেয়ের সাথে দেখা করার জন্য ভোলা থেকে ঢাকা নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে আসেন সাইফুল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার পরও দেখা করতে পারলেন না তার হতভাগা বাবা।

কারাগারে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীদের একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দেখা পাননি তার মেয়ের। বাংলাদেশের কোনো আইনেই একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর দেখাশোনার জন্য নিরপরাধ কাউকেই নিতে পারেন না। যদি দেখাশোনার দরকারই হয় তাহলে সেক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামীকে সাময়িকভাবে তাকে দেখাশোনা করার জন্য নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু নিরপরাধ কাউকেই কারাগারের ভেতর দেখাশোনার জন্য নিয়োগ করা যেতে পারে না।

নিজের বাবা-মা আর দুই ছেলে-মেয়েকে রেখে কারাগারে মানবেতর দিন পার করছেন ফাতেমা। ফাতেমার সন্তানরা মায়ের অপেক্ষায় এখনো দরজার সামনে অপার হয়ে বসে থাকে। কিন্তু তারা জানে না, বিনা অপরাধে কারাভোগে থাকা তাদের মা কবে ছাড়া পাবে। এক অনিশ্চিত দুশ্চিন্তা এবং উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে ফাতেমার পরিবার। ‘দরিদ্র’ হওয়ার অপরাধে ফাতেমার পরিবার কোনোরকম প্রতিবাদও করতে পারছে না।

এ প্রসঙ্গে ফাতেমা বেগমের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ফাতেমা তার সন্তানদের খুব ভালোবাসে। সে যখন জানতে পারে খালেদা জিয়ার অপরাধের সাজা হিসেবে বিনা অপরাধে তাকেও কারা ভোগ করতে হবে, সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু উপায় না পেয়ে জেলে যেতে রাজী হয়। কারণ বিএনপির নেতাকর্মীদের চাপের মুখে ফাতেমার আর কিছু করার ছিলো না’।

সব থেকে অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কোনো মানবাধিকার সংস্থা নিরপরাধ ফাতেমার কারাভোগের বিষয়ে কোনোরকম উচ্চবাচ্য কিংবা প্রতিবাদ করেনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নির্লিপ্ততা দেখে মনে হচ্ছে মানবাধিকার ব্যাপারটা শুধুমাত্র সমাজের উঁচুতলার মানুষদের জন্য। সমাজের নিচুতলার লোকজন মানবাধিকার পাওয়ার অধিকার রাখে না।

 

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর