বুধবার   ১৫ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ৩১ ১৪২৭   ২৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

৩৬৪

করোনাই বলে দিচ্ছে কে জনগণের বন্ধু

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২০  

করোনার খুব সহজ কিছু তত্ত্ব রয়েছে। প্রথমত , আপনি যদি ঘরে থাকেন, ঘর থেকে যদি না বের হন তাহলে আপনার করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। ঘরে থেকেও আপনি আক্রান্ত হতে পারেন যদি আপানার ঘরে বাহিরের অনাহুত কোন মানুষ প্রবেশ করে বা বাহিরে থেকে কেউ সংক্রমিত হয়ে যদি কেউ ঘরে দেয় তাহলে ঘরে থেকেও আপনি আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণ তত্ত্ব হল যদি আপনি ঘরে থাকেন এবং সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেন, আপনার সাথে ড্রাইভার বা কাজের লোক বাহিরে না যায়, কারো সংস্পর্শে না আসে তাহলে আপনি করোনায় সংক্রমিত হবেন না।

সাধারণ তত্ত্ব অনুযায়ী বিশ্বের সব দেশেই প্রায় দেখা গেছে আপনি যত মেলা মেশা করবেন, বাহিরে যাবেন তত বেশি আক্রান্তর ঝুঁকি তৈরি হবে। করোনা সঙ্কটের সময় একটি দ্বিমাত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রথমত, আপনি নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখবেন? নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনাকে ঘরে থাকতে হবে ঘর থেকে বেরুনো যাবে না। যারা ঘর থেকে বেরুচ্ছেন তাদের থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে। আপনি আপনার পরিবারকে নিয়ে একবারে ঘর বন্দি থাকলেন।

দ্বিতীয়ত, করোনায় যে অর্থনৈতিক সংকট, বিশেষ করে গরীব মানুষের খাওয়া পড়ার টানাপোড়েন এটি একটি বড় সমস্যা। এই কারনে সরকার বিভিন্ন অর্থ, খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে,  ত্রান সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার ত্রান সহায়তা, খাদ্য সহায়তা করোনা মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি দরকার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বিত্তবান জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন সামর্থ্যবান মানুষের সহায়তা।

এই সহজ তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে  দেখা যাচ্ছে, করোনা বলে দিচ্ছে যে কোন রাজনৈতিক দল জনগণের বন্ধু এবং কে বন্ধু নয়। করোনার এখন পর্যন্ত আওয়ামীলীগ এর তিন জন মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন, সাত জন সংসদ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, এখন পর্যন্ত মারা গিয়েছেন আওয়ামীলীগের একজন মন্ত্রী, একজন সংসদ সদস্য এবং আওয়ামীলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়াও আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্য করোনার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। যারা মারা গেছেন তাদের যদি আমরা গতিবিধি বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো করোনা সংক্রমণের সময় তাদের নির্বাচনী এলাকা অথবা ঢাকায় তারা জনগণের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন, জনগণকে সহায়তা করেছেন, জনগণকে ত্রান দিয়েছেন এবং জনগণের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে কথা বলেছেন। আবার বিপরীত চিত্রে দেখা যায় যে, বিএন পির কোন শীর্ষ নেতা করোনায় আক্রান্ত হননি। বরং বিএনপির প্রধান অন্যতম নেতা মোর্সেদ খান করোনায় সংক্রমণের পর পরই চার্টার্ড বিমানে করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাহলে করোনার সময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করছে, জনগন ত্রান পাচ্ছে না, জনগন সহায়তা পাচ্ছে না ইত্যাদি আহাজারি করছে। কিন্তু বি এন পির এখনো কোন নেতা আক্রান্ত হল না কেন? করোনার তত্ত্ব অনুযায়ী তারা জনগণের সংস্পর্শে আসেনি, জনগণের সঙ্গে মেশেনি। একমাত্র বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভি কে পিপিই পড়ে দশ বারো জন মানুষের মধ্যে ত্রান বিতরন করতে দেখা গিয়েছে এবং সেটা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া বি এন পির আর কোন নেতাকে এখন পর্যন্ত কোন ত্রান সহায়তা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করতে দেখা যায়নি। করোনায় ঘরবন্দি থাকা তারা ভালো করেই মানছেন।

বিএনপির নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাঝেমধ্যে গ্লাভস, পিপিইসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম পড়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে গালাগালি ছাড়া অন্য কোন কিছুই করছেন না। সর্বশেষ এসেছিলেন বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রান সহায়তা করেছেন, অসহায় মানুষকে সাহায্য দিয়েছেন এইরকম কোন খবর আমাদের কাছে নেই। ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন করোনার শুরু থেকেই নিজেকে ঘর বন্দি রেখেছেন ঘর বন্ধি থেকেছেন মির্জা আব্বাস। তিনি মাঝে মাঝে টুকটাক বিবৃতি দিচ্ছেন।  গয়েশর চন্দ্র রায়ের দেখা নেই।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগের নেতাদেরকে দেখা গেছে করোনার সময় তারা ত্রান কাজে সরাসরি তদারকি করছেন। অনেক জনপ্রতিনিধি তার এলাকায় পরে রয়েছেন, এলাকার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করছেন। সদ্য প্রয়াত মোহাম্মাদ নাসিম করোনা সংক্রমণের পর থেকেও চৌদ্দ দলের বৈঠক করেছেন।  তার এলাকার জনগণের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য এলাকায় তদারকি করেছেন। আওয়ামীলীগের প্রায় প্রত্যেক নেতাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হয় এলাকায় গেছেন অথবা এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই কারনেই আওয়ামীলীগের লোকজন অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

করোনা সংক্রমন একদম একটি গাণিতিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক একটি তত্ত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। আপনি জনগণের বন্ধু কিনা তা প্রমাণ করবে আপনি করোনায় আক্রান্ত হলেন কিনা। করোনায় আক্রান্ত হওয়া মানেই আপনি বাহিরে গেছেন, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন।  আর রাজনীতিবিদরা মানুষের সঙ্গে মেলামেশা মানেই তাদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া তাদেরকে সহযোগিতা করা। আর করোনা সংক্রমণের হিসেবই বলে দেয় যে আওয়ামীলীগ অনেক বেশি জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে আর বিএনপি নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থেকেছে।   

 

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর