মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৪৪৯

আলতাদিঘিতে ‘কয়েক লাখ’ পদ্ম ফুল

ভ্রমণ প্রতিবেদক:

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০১৯  

ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আলতাদিঘির প্রকৃতিও বদলায়। যতবার যাই ততবার নতুন রূপে আবিষ্কার করি জায়গাটিকে। এই বর্ষায় গিয়ে আরেকবার অবাক হলাম! দিঘি ভরা টলটলে কাকচক্ষু জলে কয়েক লাখ পদ্ম ফুল। ভাবলাম, ইশ, এই জায়গাটা যদি লুকিয়ে রাখতে পারতাম!

দিঘির ধারে যাওয়ার আগেই তো মন ভরে যায়। উদ্যানে ঢুকতেই চোখে পড়ে নিখাদ বন, ঘন অন্ধকার, চারপাশের মিহি সবুজ, নীরব এবং নির্জন গ্রামের পথ। সারি সারি শালবন পেরিয়ে চিকন পিচঢালা রাস্তা ধরে যেতে যেতে চোখ আটকে যাবে এর অপার সৌন্দর্যে আর নীবর মুগ্ধতায়। চারদিক একদম শুনশান। পিন পতন নীরবতার মাঝে শুকনো পাতার পতনধ্বনিতে বুক হালকা ভয়ে আঁতকে উঠবে।

মাথার ওপর থেকে আপনাকে আপন সুরে হয়তো কোনো ডাহুক গান গেয়ে শোনাবে। প্রকৃতির নিসর্গ স্নিগতায় চোখ বুজে আসবে পরম প্রশান্তিতে। মুগ্ধতায় জুড়াবে নয়ন। শালবনের মাঝ দিয়ে একেবেঁকে চলা মেঠোপথের অপর প্রান্তে বাস করে শাওতাল আদিবাসীরা। কোনো ললনা মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাওয়া জ্বালানি কাঠ দেখে হয়তো থমকে দাঁড়াবেন সংগোপনে। সবুজ গাছের মাঝ দিয়ে চলতে চলতে পেয়ে যাবেন বিশাল এক দিঘি।

 

দিঘিজুড়ে পদ্ম

দিঘিজুড়ে পদ্ম

এই দিঘির গল্পটা জানেন? রাজা বিশ্বনাথ জগদ্দল বিহার প্রজাদের জল কষ্ট নিবারণের জন্য খনন করেন বিশাল এটি। রাজা ঘোষণা করেছিলেন, রানি যতক্ষণ না হাঁটতে হাঁটতে তার পা ফেটে রক্ত বের হবে, ততক্ষণ তিনি হাঁটবেন। যেখান থেকে রক্ত বের হওয়া শুরু করবে, হাঁটা শুরুর জায়গা থেকে সেখান পর্যন্ত দিঘি খনন করা হবে। তিনি হাঁটতে শুরু করলেন। সবাই বুঝে গেলেন, এত সহজে রানির পা ফেটে রক্ত বের হবে না। তখন পেছন থেকে কেউ একজন রানির পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে বলল রক্ত বের হচ্ছে! রানি থেমে গেলেন। তার হাঁটার শুরু থেকে সেই আলতারাঙা পা পর্যন্ত দিঘি খোঁড়া হলো। সেই থেকে নাম হলো আলতাদিঘি।

না, আপনার পদযুগল আটকাতে হবে না। কিন্তু আপনার আঁখিযুগল আটকে যাবে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যে আর পদ্ম পাতার উপরে আটকে থাকা জলের চাকচিক্যময়তায়। কাছে গিয়ে বসতেই দেখি বড় বড় পদ্মপাতার ওপরে মুক্তোদানার মতো জলের ফোঁটা সূর্যের আলোর ঝিলিকে ঝলমল করছে। এক–দুটি পাতায় নয়, হাজার হাজার পদ্মপাতার ওপরে এমন জলের ঝিলিক পুরো দিঘিকেই যেন এক মুক্তোর আঁধার বানিয়ে ফেলেছে! কতক্ষণ ঠায় বসে ছিলাম জানি না। তবে দিঘির অপর পাশের শালবনের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলোর ঝলকানি চোখে পড়তেই উঠে পড়েছিলাম। রোদ থেকে উঠে পড়ে এবার দিঘির পাড় দিয়ে ধীর ধীরে হেঁটে যেতে শুরু করলাম, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

নওগাঁ এসে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০ কিলোমিটার ভেতরে ধামইরহাটে যাওয়া বাসে উঠে ধামইরহাট যেতে হবে। ধামইরহাটে নেমে সেখান থেকে রিকশা অথবা ভ্যানে আপনি আলতাদিঘি যেতে পারেন। এতে আপনার ভাড়া লাগবে ১০-১৫ টাকা। সেখানকার আরেকটি দর্শনীয় স্থান ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত জগদল বিহার’ দেখতে যেতে পারবেন। আর জয়পুরহাট গেলে ‘পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার’ দেখতে ভুলবেন না!

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো