বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

১১৩

আবরার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ১০, রয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বে

অদিত উল্লাহ

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০১৯  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন তাঁর বাবা বরকতুল্লাহ। সোমবার সন্ধ্যার পর চক বাজার থানায় হত্যা মামলাটি করেন তিনি। মামলার আগে ও পরে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার বুয়েটের শেরে বাংলা হলে অভিযান চালিয়ে এবং সিসিসিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। ইতোমধ্যে হত্যার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রথম দফায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। তারা দুজনেই বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র। বাকিরা হলেন, বাকি আটজন হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।

এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের তরফ থেকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নজরদারিতে রাখা হচ্ছে আবরার হত্যাকান্ড। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, 'ভিন্নমতের জন্য একজনকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই।' সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকরীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি মনোভাব ব্যক্ত করেন। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বুয়েটের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত হোক তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সকালে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঘটনায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এছাড়াও ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে তার সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জয় বলেন, “আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ছাত্রলীগের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব আমরা।” এদিকে, আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আল রিয়াদ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ছাত্রলীগ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার ১১জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। উল্লেখ্য, নিহত ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।

নিউজ বাংলার আলো
নিউজ বাংলার আলো
এই বিভাগের আরো খবর